election 5 statesBreaking News Others Politics 

৫ রাজ্যে বিধানসভা ফলের আভাস

আমার বাংলা নিজস্ব প্রতিনিধি: ৫টি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে আগামী ৩ ডিসেম্বর। বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ্যে এসেছে। ভোট বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই বলে রেখেছেন, এই সমীক্ষা একটা পূর্বাভাস বা ইঙ্গিত। বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ বলছেন, বুথফেরত সমীক্ষার ফল সব সময় সঠিক হয় না। একটা পূর্বাভাস পাওয়া যায় মাত্র। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, তেলঙ্গানা ও মিজোরামে ঠিক কী হতে চলেছে, তার পূর্বাভাস তুলে ধরা যাক। তবে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে উপায় নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা অংশ বলছেন,রাজস্থান বা মরুরাজ্যে এবার কঠিন লড়াই হতে চলেছে। অশোক গহলৌতের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার রাজস্থানে ক্ষমতায় ফিরবে। আবার গহলৌত বনাম পাইলট বিরোধের ফয়দা তোলার সুযোগ থাকছে বিজেপির। লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে কংগ্রেস শাসিত রাজস্থান রাজ্যে ক্ষমতা দখল করাকে পাখির চোখ এবার বিজেপির। তবে ভোটবাক্সে তা কতটা ফলপ্রসূ হবে,তার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে।

মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে বিজেপির শিবরাজ সিংহ চৌহানের মুখ্যমন্ত্রিত্বে মধ্যপ্রদেশে ফের ক্ষমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা বিজেপির। ভোট প্রচারে এমন ছবিটা স্পষ্ট হয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গাঁধীর এককালীন ‘”বন্ধু” এবং গোয়ালিয়র রাজ পরিবারের সদস্য জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার কাছে এই নির্বাচন বিজেপিতে নিজের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ বলা চলে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অন্য একটা অংশের মত,২০১৮ সালে ক্ষমতায় এসেও কংগ্রেসকে সরে যেতে হয়েছিল, তার জন্য এই রাজ্যে কংগ্রেসের জয় খুবই জরুরি।

ছত্তিশগড়ে সমীক্ষার ফলাফল নিয়ে অনেকটাই সংশয় থাকছে বিশ্লেষকদের। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে,কংগ্রেসের উপমুখ্যমন্ত্রী টি এস সিংহ দেও জানিয়েছেন,এখানকার ৯০টি আসনের ৬০টিই পেতে চলেছে কংগ্রেস। এই ছবিটা স্পষ্ট হবে ফল প্রকাশের পর। ছত্তিশগড়ে পাল্লা ভারি হয়ে রয়েছে কংগ্রেসের ৷ ভূপেশ বাঘেলের নেতৃত্বে তৈরি সরকারই ফের ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে বলে সমীক্ষায় ইঙ্গিত। তবে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি তারও আভাস পাওয়া গিয়েছে।

তেলঙ্গানার চিত্রটা তুলে ধরা যাক। ২০১৮ সালে বিআরএস বা তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি ১১৯টি আসনের মধ্যে ৮৮টা আসনে জয় পেয়ে ক্ষমতায় আসে। ৪৭.৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল ওই দল। কংগ্রেস ভোট শতাংশ ও প্রাপ্ত আসনের নিরিখে দ্বিতীয় হলেও ধারে কাছে পৌঁছাতে পারেনি। দীর্ঘ এক দশক ওই দলের উপরই আস্থা তেলঙ্গানার বড় অংশের মানুষের। এই নির্বাচনে কি হতে চলেছে তার প্রতীক্ষা থাকছেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, দুর্নীতি মামলায় কেসিআর-কন্যা কবিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। বেশ কিছু অভিযোগ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে সরব ছিল বিজেপি। তাতে কি ফলাফল আসে তা দেখার অপেক্ষা থাকবে।

মিজোরাম রাজ্যে এবারের নির্বাচনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গার নেতৃত্বাধীন মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টকে। ৬টি দলের জোট “জোরাম পিপলস মুভমেন্ট” একদিকে, অন্যদিকে কংগ্রেস নির্বাচনী প্রচারে সামিল ছিল। এই রাজ্যের নির্বাচনে আঞ্চলিক দলগুলির প্রভাব অনেকটাই। উল্লেখ করা যায়, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজেপি-র জোটশরিক এমএনএফ ২৬টি আসনে জয়ী হয়। বিজেপি পায় মাত্র ১টি আসন। এবার গেরুয়া শিবির সেই ছবিটা বদলাতে পারে কিনা সেটাই দেখার। কংগ্রেসও ক্ষমতায় ফেরার জন্য জোরদার প্রচার করেছে। মিজোরামের মানুষ কার ওপর আস্থা রাখবে তার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে। আজ বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল সামনে আসতে শুরু করেছে, তাতে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে ৷

(ছবি: সংগৃহীত)

Related posts

Leave a Comment